Destination Murshidabad বছর শেষে বড়দিনের সকাল । শীতের আমেজের সঙ্গে ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদের রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। শহরের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে উৎসবের আবহে। পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হাজারদুয়ারী প্যালেস। সকালে সূর্যের আলো পড়তেই রাজকীয় এই প্রাসাদের গায়ে ঝলমল করছে তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য। সেখানেই দাঁড়িয়ে গাইড হাফিজুল শেখ পর্যটকদের ব্যাখ্যা করছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাসনকাল থেকে শুরু করে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের কথা। হাফিজুল বলছেন, “ আজ বড়দিনের ছুটিতে সকাল থেকেই ভিড় শুরু হয়েছে। পরিবার নিয়ে প্রচুর মানুষ এসেছেন। ইতিহাসের প্রতি মানুষের কৌতূহল দেখে ভালো লাগছে। নতুন বছরেও এই রেশ থাকবে ”
মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাগুলিও আজও মূল আকর্ষণ নবাবী আমলের মতোই টাঙ্গায় বসে পর্যটকরা শহর ঘুরছেন। টাঙ্গা চালক রাজু শেখ জানালেন, “বড়দিনের সময় লোক বেশি হয়। হাজারদুয়ারী থেকে কাটরা মসজিদ, তারপর নবাবী ময়দান—আমরা সবাইকে শহর ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি। অনেকেই ছবি তুলছেন।” টাঙ্গার যাত্রাপথেই দেখা গেল এক পর্যটক দম্পতি। বীরভূম থেকে আসা সোমনাথ বসু এবং তার স্ত্রী শ্রীময়ী বসু বলছেন, “টাঙ্গায় ঘোরা আমাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। রাজকীয় অনুভূতি হচ্ছে। গাইডের কাছ থেকে এত কিছু জানতে পারছি, যা বইয়ে পড়া সম্ভব নয়।”

হাজারদুয়ারীর পর পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন কাটরা মসজিদে। স্থানীয় শিক্ষক মেহবুব আলি বললেন, “এখানকার ইতিহাস না জানলে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখানকার কারুকার্য আর নবাব মুর্শিদ কুলি খানের স্থাপত্যশৈলী সবাইকে মুগ্ধ করে।” তীর্থ ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় দোকানে। চুন্নু মোল্লার দোকানে মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মাটির পুতুল বিক্রি হচ্ছে রমরমিয়ে। অনেকেই ভিড় করছেন বিরিয়ানির দোকানে ।
গঙ্গার ধারে এসে অনেকেই নৌকাভ্রমণ করতে ব্যস্ত। দূর থেকে হাজারদুয়ারী দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন অনেকে। নৌকাচালক রফিকুল বললেন, “শীতে গঙ্গার উপরে নৌকায় ভ্রমণের আলাদা মজা। শীতের সকালে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেই হাতছাড়া করতে চান না।” বড়দিনের সকালে এই রকম জমজমাট মুর্শিদাবাদ যেন এক ঐতিহাসিক ক্যানভাস। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহর। শীতের রোদ আর ইতিহাসের গল্পে ভরপুর মুর্শিদাবাদ আজও নিজের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।